২৮ শিক্ষক-কর্মচারীর পদে ১৯ টিই শূন্য, সংকটে দুপচাঁচিয়ার সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুল
দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরের সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৮ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ১৯টি পদই শূন্য রয়েছে। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ মাত্র ৭ জন শিক্ষক ও চতুর্থ শ্রেণির ২ জন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষক সংকটের কারণে খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে কোনোভাবে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বিদ্যানুরাগী ও সুধীজনের উদ্যোগে প্রায় ৮ একর জায়গার ওপর ১৮৯২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকৃতি লাভ করে। তৎকালীন সময়ে জিতেন্দ্র নাথ চৌধুরী প্রথম প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়টি উচ্চবিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
দীর্ঘ ঐতিহ্যের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সরকারিকরণ করা হয়। তবে সরকারিকরণের পরও শিক্ষক-কর্মচারীর সংকট কাটেনি। বর্তমানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১৮টি শিক্ষকের পদ রয়েছে। এর বিপরীতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৭ জন। ফলে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ ১১টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অন্যান্য কর্মচারীর পদেও রয়েছে ব্যাপক সংকট। গ্রন্থাগারিক ১টি, কম্পিউটার অপারেটর ১টি, অফিস সহকারী ২টি, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ৪টি এবং ঝাড়ুদারের ২টি পদ রয়েছে। এসব পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ২ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কর্মরত আছেন। ফলে এ পর্যায়েও ৮টি পদ শূন্য রয়েছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনিছুল ইসলাম লিটন আগামী ১০ অক্টোবর অবসরে যাচ্ছেন। তিনি ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর অবসরের পর বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীর পদ শূন্য থাকায় ঐতিহ্যবাহী এই সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

0 Comments